বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৩

সেলফোন ট্রাকিং


সেলফোন ট্রাকিং - বিশেষ সতর্কতা
------------------------------

সার্ভিল্যান্স টিম ইনফ্যাক্ট আমাদের বোকামিতেই ৫ মিটার রাডিয়াস ধরে সেলফোন পিনপয়েন্ট করতে পারে। অথচ একটু সতর্ক হলেই ব্যাটাদের নাকানিচুবানি খাওয়ানো যায় - নেহ - এইবার এক বর্গমাইল এলাকা ধইরা আমারে খোঁজ। খাইটা খা!!


★শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন★

মুলতঃ RAB এর আন্ডারে সেলফোন ও জিপিএস ট্রাকার সহ কিছু (খুব সম্ভবত দু'টা) মোবাইল সারভিল্যান্স ইউনিট আছে।

বলে রাখি, যে কোন ফোন মিনিটে কয়েকবার সে কোন টাওয়ারের কোন সেলের আন্ডারে আছে সেসব ইনফরমেশন পাঠায়। RAB সেলফোন ট্রাকিং-এর জন্যে দুটি পদ্ধতি ইউজ করে। সেগুলো হলঃ

১) পিঙিং এন্ড ট্রাইয়্যাঙ্গুলেশন
২) রিয়েলটাইম ডিফারেন্সিয়াল জিপিএস

এদের ডিটেইলসে যাচ্ছি না। আগ্রহীরা গুগল করে আরও ইনসাইট পেতে পারেন। আর লেখার শেষ অংশে তেমন কিছু লিঙ্ক দেয়া আছে।


★কি কি সতর্কতা অবলম্বন করবেন★

টেকিরা বলে, সেলফোন ট্রাকিং প্রিভেন্ট করার সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে সেলফোন ইউজ না করা। বুঝতেই পারছেন দিয়্যার ইজ নো ওয়ে আউট। তবুও নিচের সতর্কতাগুলো নেয়া জরুরীঃ

১) সবসময় জিপিএস অফফ রাখবেন। যতই দরকার হোক, নিজের বাসস্থানে কখনোই এটা অন করবেন না।

২) ওয়াই-ফাই বেইজড লোকেশন সার্ভিস ইউজ করবেন না।

৩) গুগল বা অন্য যে কোন এপ্লিকেশন যদি আপনার লোকেশন ডেটা ইউজ করতে চায় - ডিনাই করবেন।

৪) কোনরকম লোকেশন-অ্যাওয়ার সার্ভিস ইউজ করবেন না। যেমনঃ গুগল ল্যাটিচুড, গুগল ম্যাপ, নিয়ারবাই ফ্রেন্ডস/রেস্টরন্ট/হোটেল ট্রাকার, ইত্যাদি ইত্যাদি।

৫) পারতপক্ষে মোবাইল নেটওয়ার্ক দিয়ে এসএমএস করবেন না।

৬) যারা এক্সট্রিম সিকিউরিটি থ্রেটের মধ্যে আছেন, তারা নিজ বাসস্থানের ১ মাইল রেডিয়াসের মধ্যে ঢুকার আগেই সেলফোন অফফ করে ফেলুন।

রিমেইন ভিজিল্যান্ট, রিমেইন সেইফ!
-------------------------------

(বাকি অংশটুকু কেবলমাত্র ট্রাকিং ও প্রিভেনশন নিয়ে যারা আরও বেশি জানতে চান তাদের জন্যে)


★সেল ট্রাকিং, প্রিভেনশন এন্ড জ্যামার★

* হাউ ফোন-ট্রাকিং ওয়ার্কসঃ http://www.tech-faq.com/how-cell-phone-tracking-works.html

* টাওয়ার ট্রাইয়্যাঙ্গুলেশন - হাউ ইট ওয়ার্কসঃ http://wrongfulconvictionsblog.org/2012/06/01/cell-tower-triangulation-how-it-works/

* ট্রাইয়্যাঙ্গুলেশন, জিপিএস, গুগল ম্যাপঃ http://searchengineland.com/cell-phone-triangulation-accuracy-is-all-over-the-map-14790

* রিয়েলটাইম ডিফারেন্সিয়াল জিপিএসঃ http://www.esri.com/news/arcuser/0103/differential1of2.html

* ডিস্যাবলিং ক্যারিয়ার আই-কিউঃ http://www.howtogeek.com/99157/

* জিপিএস ও সেলফোন জ্যামার (ইললিগ্যাল) ট্যু প্রিভেন্ট ট্রাকিং সেলফোনঃ http://io9.com/5622807/how-to-stop-the-government-from-tracking-your-location


কালপুরুষ এফ-ওয়ান™
০৫ ডিসেম্বর, ২০১৩




মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩

কক্সবাজারের ভূ-গর্ভস্থ পানিতে বিষাক্ত পদার্থ ইউরেনিয়াম এবং থোরিয়াম


কক্সবাজারের ভূ-গর্ভস্থ পানিতে বিষাক্ত পদার্থ ইউরেনিয়াম এবং থোরিয়াম উপস্থিতির নতুন তথ্য আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী পেট্রোলিয়াম এ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সাবেক চেয়ারম্যান ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকী

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পেট্রোলিয়াম এ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সাবেক চেয়ারম্যান ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকী কক্সবাজারের ভূ-গর্ভস্থ পানিতে বিষাক্ত পদার্থ ইউরেনিয়াম এবং থোরিয়াম উপস্থিতির নতুন তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন। তিনি দীর্ঘ তিন বছর (২০১০-২০১৩) কক্সবাজার শহর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার ভূ-গর্ভস্থ পানি এবং বালি গবেষণা করে এ তথ্য পান।

ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকী বলেন, ওই এলাকা থেকে প্রায় ১০০টি বিভিন্ন গভীরতার নলকূপ থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পানি ও বালি সংগ্রহ করে জাপানের ওসাকা সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওহফঁপবফ ঈড়ঁঢ়ষবফ চষধংসধ-গধংং ঝঢ়বপঃৎড়সবঃৎু (ওঈচ-গঝ)-এর সাহায্যে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। এতে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ২০-৩০ ফুট গভীরতার নলকূপের প্রতি লিটার পানিতে সর্বোচ্চ চার মাইক্রোগ্রাম ইউরেনিয়ামের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এই মাত্রা ১৯৯৮ সালে ডব্লিউএইচও'র গাইড লাইনের মাত্রার (দুই মাইক্রোগ্রাম প্রতি লিটার) চেয়ে দ্বিগুণ।

তিনি আরও লক্ষ্য করেন, ২০০-২৫০ ফুট গভীরতার নলকূপের পানিতে থোরিয়ামের উপস্থিতি প্রতি লিটার পানিতে সর্বোচ্চ এক দশমিক ছয় মাইক্রোগ্রাম। তিনি কক্সবাজারের কলাতলি এলাকার থেকে সংগৃহীত বালি ঝঊগ-ঊউঅঢ মাধ্যমে পরীক্ষা করে আরও দেখতে পান, মোনাজাইট এবং জিরকন নামক মূল্যবান ভারি খনিজ পদার্থে মাত্রাতিরিক্ত অর্থাৎ প্রায় ১৬ শতাংশ ইউরেনিয়াম এবং থোরিয়াম বিদ্যমান, যা সাধারণ মাত্রার চেয়ে অনেক গুণ বেশি।

তিনি ধারণা করেন, মোনাজাইট এবং জিরকন নামক পদার্থ থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে নিঃসরিত হয়ে বিভিন্ন উপায়ে এ বিষাক্ত পদার্থ ভূ-গর্ভস্থ পানিতে মিশে যাচ্ছে। অতিরিক্ত ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে পানিতে লবণাক্ততার পাশাপাশি এই বিষাক্ত পদার্থ নিঃসরণ হতে পারে। এ বিষয়টি পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

তরুণ এই বিজ্ঞানীর এ ধরনের গবেষণা বাংলাদেশে এই প্রথম এবং তাঁর গবেষণালব্ধ ফলাফল ইউরেনিয়াম ও থোরিয়ামের পাশাপাশি অন্যান্য উপাদান যেমন, রেডিয়াম, রেডন ইত্যাদি সম্পর্কে আরও উন্নত গবেষণা করার ক্ষেত্র তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পানিতে ইউরেনিয়াম এবং থোরিয়ামের মাত্রা পরিমাপ করার সঙ্গে সঙ্গে ইউরেনিয়াম এবং থোরিয়ামের কি ধরনের আইসোটোপ, পানি এবং বালিতে বিদ্যমান তা জানা খুবই জরুরী। তাঁর এ গবেষণা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সুচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ড. আশরাফ সিদ্দিকীর গবেষণার ওপর নিবন্ধ আমেরিকার জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং অস্ট্রিয়ার সিটিবিটিও (আন্তর্জাতিক পারমাণবিক বিস্তার রোধ সংস্থা) গ্রহণ করেছে। তিনি পেপার উপস্থাপনের জন্য আগামী জুনে আমেরিকা ও অস্ট্রিয়া যাবেন। ড. সিদ্দিকী বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক বিশ্ব ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় উচ্চ শিক্ষা মানোন্নয়ন



ফিঙ্গারপ্রিন্ট তথা আঙুলের ছাপের আবিষ্কারক একজন বাঙালি!


অপরাধী শনাক্তকরণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট তথা আঙুলের ছাপের আবিষ্কারক একজন বাঙালি, কিন্তু সেই আবিষ্কার চুরি করে নেয় তাঁরই ইংরেজ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। কিন্তু সেই চুরির ঘটনা গোপন থাকেনি। ১০০ বছর পর মুখ খুলেছে ইতিহাস: আঙুলের ছাপের আবিষ্কারক আসলে খুলনার একজন বাঙালি, নাম কাজি আজিজুল হক।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা হাতের আঙুলের ছাপের ব্যবহার নিয়ে খ্রিষ্টপূর্বকালে বিশ্বের দেশে দেশে কত বিচিত্র প্রকৃতির কাজই না হয়েছে! তার বিবরণ তুলে ধরার অবকাশ এই নিবন্ধে নেই। আমরা বরং অপরাধী শনাক্ত করার কাজে আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে ঊনবিংশ শতকের শেষপাদ থেকে শুরু হওয়া এবং বিংশ শতকের দ্বিতীয় দশক পর্যন্ত চলতে থাকা গবেষণার ফিরিস্তিতে চলে আসি। তাহলেই আমরা পেয়ে যাব সেই বিস্মৃত বাঙালি আজিজুল হককে এবং দেখব তাঁর গবেষণাগত কাজের মূল্য কত গভীর ও অপরিসীম! শুধু তা-ই নয়, এ ক্ষেত্রে তাঁর উদ্ভাবিত পদ্ধতি বহু বাধা-বিপত্তি উজিয়ে আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। তাঁকে বাদ দিয়ে অপরাধী শনাক্তকরণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট তথা আঙুলের ছাপের ইতিহাস হতে পারে না। অথচ তাঁর এই কৃতিত্বই অনেক কিছুর মতো চুরি করে নেয় ব্রিটিশরাজের একজন শীর্ষচূড় কর্মকর্তা, কিন্তু ইতিহাসের বিচার তাঁর প্রাপ্য তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছে। শোনা যাক সেই বিস্মৃত মুসলমান বাঙালির বিরল আখ্যান।

কে এই আজিজুল হক?

তাঁর পারিবারিক নাম কাজি সৈয়দ আজিজুল হক। তিনি জন্মেছিলেন ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে তখনকার খুলনা জেলার ফুলতলার পাইগ্রাম কসবায়। বয়সে তিনি যখন একেবারে তরুণ, তখন তাঁর মা-বাবা মারা যান এক নৌ-দুর্ঘটনায়। ১২ বছর বয়সে তিনি বাড়ি ছেড়ে পালান। বহু পথ পাড়ি দিয়ে পা রাখেন কলকাতা মহানগরের মাটিতে। ক্লান্ত, অবসন্ন, ক্ষুধার্ত আজিজুল হক একটা বাড়ির সামনে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুমন্ত কিশোরটিকে বাড়ির অভিভাবকের ভালো লাগে। তিনি তাঁকে লেখাপড়া করানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। গণিতে আজিজুলের মাথা খুবই ভালো ছিল। হাইপেরিয়ন প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত ফিঙ্গারপ্রিন্টস বইয়ের লেখক ও গবেষক কলিন বিভানের মতে, আজিজুল হক যখন কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র, তখন তাঁকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট তথা আঙুলের ছাপসংক্রান্ত একটা প্রকল্পে কাজ করার জন্য মনোনীত করা হয়। কলেজের অধ্যক্ষই তাঁকে মনোনীত করেন। ব্রিটিশরাজের অধীন বাংলার পুলিশ বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল তখন স্যার অ্যাডওয়ার্ড হেনরি। তাঁর নেতৃত্বেই চলছিল এই প্রকল্পের কাজ। গণিত ও পরিসংখ্যানে মাথা ভালো, এমন কাউকে তিনি খুঁজছিলেন। ফলে কলেজের অধ্যক্ষ আজিজুল হককেই এ কাজের জন্য বেছে নেন। অধ্যক্ষের সুপারিশে পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে হেনরি তাঁকে তাঁর প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ করে দেন। সালটা ১৮৯২।

কাজ শুরু হলো কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। অখণ্ড বাংলায় তখন অ্যানথ্রোপমেট্রি (মানবদেহের আকৃতি) পদ্ধতিতে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলত। অ্যাডওয়ার্ড হেনরি এই পদ্ধতিতে বেশ ত্রুটি খুঁজে পেলেন। দেখলেন, একজন লোকের দেহের মাপ বিভিন্ন হাতে এক ধরনের থাকে না। ১৮৯৩ সালের ৩ জানুয়ারি তাই তিনি এক পরওয়ানা বলে অপরাধের সঙ্গে জড়িত লোকজনের বাঁ হাতের বুড়ো আঙুলের টিপ নেওয়ার নির্দেশ দিলেন। এর তিন বছর পর তিনি ধরা পড়া প্রত্যেক অপরাধীর দুই হাতের ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়া বাধ্যতামূলক করলেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল আঙুলের ছাপ নেওয়া এসব কাগজপত্র ফাইলভুক্ত করা নিয়ে। এই কাজে এগিয়ে এলেন গণিতের ছাত্র এবং সদ্য সাব-ইন্সপেক্টর পদে চাকরি পাওয়া আজিজুল হক। অক্লান্ত চেষ্টার ফলে তিনি যে পদ্ধতি উদ্ভাবন বা আবিষ্কার করলেন, তা-ই ‘হেনরি সিস্টেম’ বা ‘হেনরি পদ্ধতি’ নামে পরিচিত হলো। অ্যাডওয়ার্ড হেনরি নিজের নামেই তা চালিয়ে দিলেন। কিন্তু এই হেনরি রহস্যের জট খুলতে লেগে গেছে ১০০ বছর। অবশ্য তাঁর কাজের পুরস্কার হিসেবে আজিজুল হককে দেওয়া হয়েছিল ‘খান বাহাদুর উপাধি’, পাঁচ হাজার টাকা এবং ছোটখাটো একটা জায়গির। চাকরিতে পদোন্নতি পেয়ে হয়েছিলেন পুলিশের এসপি। অবিভক্ত ভারতের চম্পারানে (বর্তমানে ভারতের বিহার রাজ্যের একটি জেলা যা উত্তর চম্পারান নামে পরিচিত) কাটে তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলো। সেখানেই তিনি ১৯৩৫ সালে মারা যান। বিহারের মতিহারি স্টেশনের অনতিদূরে তাঁর নিজের বাড়ি ‘আজিজ মঞ্জিল’-এর সীমানার মধ্যে তাঁকে সমাহিত করা হয়। ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পর তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশে চলে আসেন। মরহুম আজিজুল হকের পুত্র আসিরুল হক পুলিশ বিভাগের ডিএসপি হয়েছিলেন। তাঁর দুই বিখ্যাত নাতি ও নাতনি হচ্ছেন যথাক্রমে ইতিহাসের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং শহীদ জায়া বেগম মুশতারী শফী। এছাড়াও তাঁর আরো আত্মীয়স্বজন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন বিশ্বের নানা প্রান্তে।

আজিজুল হকের মৌলিকত্ব কোথায়?

২০০১ সালে প্রকাশিত কলিন বিভান তাঁর ফিঙ্গারপ্রিন্টস গ্রন্থে আজিজুল হকের গবেষণার মৌলিকত্ব সম্পর্কে লিখতে গিয়ে জানাচ্ছেন, অ্যানথ্রোপমেট্রিক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আজিজুল হক ভয়ানক অসুবিধার সম্মুখীন হন। ফলে নিজেই হাতের ছাপ তথা ফিঙ্গারপ্রিন্টের শ্রেণীবিন্যাসকরণের একটা পদ্ধতি উদ্ভাবন করে সে অনুযায়ী কাজ করতে থাকেন। তিনি উদ্ভাবন করেন একটা গাণিতিক ফর্মুলা। ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপের ধরনের ওপর ভিত্তি করে ৩২টি থাক বানান। সেই থাকের ৩২টি সারিতে সৃষ্টি করেন এক হাজার ২৪টি খোপ। বিভান আরও জানাচ্ছেন, ১৮৯৭ সাল নাগাদ হক তাঁর কর্মস্থলে সাত হাজার ফিঙ্গারপ্রিন্টের বিশাল এক সংগ্রহ গড়ে তোলেন। তাঁর সহজ-সরল এই পদ্ধতি ফিঙ্গারপ্রিন্টের সংখ্যায় তা লাখ লাখ হলেও শ্রেণীবিন্যাস করার কাজ সহজ করে দেয়।

এর আগে বিশিষ্ট নৃবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস গ্যালটন, যে একইসঙ্গে বিখ্যাত জীববিজ্ঞানী চার্লস ডারউনের চাচাত ভাই, তাঁর উদ্ভাবিত অ্যানথ্রোপমেট্রিক পদ্ধতি অপরাধী শণাক্তকরণের কাজে ব্যবহার হয়ে আসছিল, কিন্তু এই পদ্ধতিতে ফিঙ্গারপ্রিন্টের শ্রেণীবিন্যাসকরণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যেত, অথচ হকের সাব-ক্ল্যাসিফিকেশন পদ্ধতি বা শ্রেণীবিন্যাসকরণ পদ্ধতির দৌলতে তা হয়ে দাঁড়ায় বেশি হলে মাত্র এক ঘণ্টার কাজ। অথচ আজিজুল হকের এই পুরো কৃতিত্ব অ্যাডওয়ার্ড হেনরি নিজের বলে চালিয়ে দে। তাঁর এই পদ্ধতির নাম দেন ‘হেনরি সিস্টেম’। এমনকি তিনি ক্ল্যাসিফিকেশন অ্যান্ড ইউজেস অব ফিঙ্গারপ্রিন্টস নামে যে বই লেখেন, তাতেও বেমালুম চেপে যান আজিজুল হকের নাম। এবং ব্রিটিশ সরকারও যথারীতি স্বীকৃতি দিলেন এই পদ্ধতিকে। এর অল্প দিনের মধ্যেই কলকাতায় স্থাপন করা হলো বিশ্বের প্রথম ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরো’। এই সংস্থা গড়ে তোলার বেশ পরে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে একই ধরনের আরও একটি ব্যুরো গড়ে তোলা হয়। আমেরিকাতেও গড়ে ওঠে একই ধরনের প্রতিষ্ঠান। তবে বেশ পরে। আর আজ বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরো বা সংস্থা গড়ে ওঠেনি, যেখানে অনুসৃত হয় না আজিজুল হক উদ্ভাবিত ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপের শ্রেণীবিন্যাসকরণ পদ্ধতি।

গোপন আর গোপন থাকেনি

কারেন্ট সায়েন্স সাময়িকীর ২০০৫ সালের ১০ জানুয়ারি সংখ্যায় জিএস সোধী ও যশজিৎ কাউর ‘দ্য ফরগটেন ইন্ডিয়ান পাইওনিয়ারস অব ফিঙ্গারপ্রিন্ট সায়েন্স’ শীর্ষক যে দীর্ঘ নিবন্ধ লেখেন, তাতে তাঁরা হাতের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্টের শ্রেণীবিন্যাসকরণের ক্ষেত্রে খান বাহাদুর আজিজুল হকের অবদানের কথা অকপটে স্বীকার করে বলেছেন, এ ক্ষেত্রে তাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি। শুধু তা-ই নয়, তাঁরা স্যার অ্যাডওয়ার্ড হেনরির মুখোশ উন্মোচন করতেও দ্বিধা করেননি। তাঁদের দুজনের লেখা ওই নিবন্ধ থেকে এও জানা যাচ্ছে যে আজিজুল হক তাঁর কাজের স্বীকৃতি চেয়ে আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই আবেদন ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। বিশেষত অ্যাডওয়ার্ড হেনরি যত দিন কর্মসূত্রে ভারতে ছিলেন, তত দিন এ ব্যাপারে উচ্চবাচ্য করার কোনো ধরনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু হেনরির বিবেকের জ্বালা বোধ হয় ছিল। সেই জ্বালা বা যন্ত্রণা থেকেই তিনি ১৯২৬ সালের ১০ মে ইন্ডিয়া অফিসের তখনকার সেক্রেটারি জেনারেলকে এক চিঠি মারফত জানাচ্ছেন, ‘আমি এটা পরিষ্কার করতে চাই যে আমার মতে, শ্রেণীবিন্যাসকরণ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পদ্ধতিকে নিখুঁত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন আমার কর্মচারীদের মধ্যে তিনি (আজিজুল হক)। সময়ের পরীক্ষায় সেই পদ্ধতি উত্তীর্ণ হয়েছে এবং বেশির ভাগ দেশ তা গ্রহণ করেছে।’ প্রশ্ন উঠতে পারে কেন ৩০ বছর পর আজিজুল হকের অবদানের স্বীকৃতি দিলেন তিনি? এত দিন কেন দেননি? জবাবে বলা হচ্ছে, প্রথমত, হকের পদোন্নতি। এবং দ্বিতীয়ত, ভারতীয় জনগণের ওপর তত দিনে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রভাব খর্ব হওয়ার বিষয়টি। যদি হেনরির গোপনীয়তা হক বা তাঁর অন্য সহকর্মীরা ফাঁস করে দেন! সম্ভবত এই ভয় থেকেই আজিজুল হকের অবদানের কথা বেমালুম চেপে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

শেষ খবর

এখন দিবালোকের মতো এটা স্পষ্ট যে কথিত ‘হেনরি সিস্টেম’ আর হেনরির নয়। এখন আজিজুল হকের ভক্ত ও অনুসারীরা ফিঙ্গারপ্রিন্টের এই পদ্ধতিকে ‘হেনরি-হক-বোস সিস্টেম’ বলে অভিহিত করছেন। উল্লেখ্য, হেমচন্দ্র বোস ছিলেন আজিজুল হকের সহকর্মী। এ ক্ষেত্রে তাঁরও অবদান কম নয়। আমেরিকার সেন্ট লুইসে বসবাসকারী আজিজুল হকের প্রপিতামহ ব্রিট ফেন্সি নামে আজিজুল হক ও হেমচন্দ্র বোসের ওপর কাজ করে যাচ্ছেন। ব্রিটেনের ‘দ্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট সোসাইটি’ ফেন্সির উদ্যোগে চালু করেছে ‘দ্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট সোসাইটি আজিজুল হক অ্যান্ড হেমচন্দ্র বোস প্রাইজ’। যাঁরা ফরেনসিক সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সবিশেষ অবদান রাখবেন, এ পুরস্কার দেওয়া হবে তাঁদেরই।



স্বর্গে যেতে চাইলে বাংলাদেশ ঘুরে আসুন -মুহম্মদ আলী(বক্সার)


‘Muhammad Ali Goes East: Bangladesh’ I Love You’
স্বর্গে যেতে চাইলে বাংলাদেশ ঘুরে আসুন

যুক্তরাষ্ট্র আমাকে তাড়িয়ে দিলে কি হয়েছে, বাংলাদেশ তো আছে’।কথাগুলো আর কারও নয়, বিশ্বের সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধা (বক্সার) মুহম্মদ আলীর।
১৯৪২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে ক্যাসিয়াস ক্লে জুনিয়রের জন্ম হয়।২২ বছর বয়সে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর নাম পরিবর্তন করে মুহম্মদ আলী রাখেন।তার কন্যা লায়লা আলীও বর্তমানে একজন পেশাদার নারী বক্সার।

সম্প্রতি পুনঃপ্রকাশিত ১৯৭৮ সালের এক দুর্লভ ডকুমেন্টারি থেকে এসব তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ‘Muhammad Ali Goes East: Bangladesh’ I Love You’ (মুহম্মদ আলীর পূর্ব সফর: বাংলাদেশ, তোমায় ভালোবাসি) নামে ডকুমেন্টারিটি তৈরি করেছিলেন রেগিন্যাল্ড ম্যাসে।

সেসময় সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের বয়স মাত্র ৭ বছর।আর মুহম্মদ আলীর খ্যাতির শীর্ষে।১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে লিওন স্পিঙ্কসের সঙ্গের বিখ্যাত ম্যাচে হারের পর হেভিওয়েট শিরোপা হাতছাড়া হয়ে যায় মুহম্মদ আলীর।এরপরই ছুটি কাটাতে আসেন বাংলাদেশে।

ঢাকার বিমানবন্দরে মুহম্মদ আলীকে বরণ করতে হাজির হয়েছিলেন ২০ লাখেরও বেশি ভক্ত।অবস্থানকালে বাংলাদেশের বিখ্যাত স্থানগুলো স্ত্রীকে নিয়ে চষে বেড়ান মুহম্মদ আলী।সুন্দরবন, সিলেটের চা বাগান, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, কক্সবাজার-- কিছুই বাদ দেননি।তাকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্মাননা হিসেবে নাগরিকত্ব ও বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়া হয়।যার ফলে দেশত্যাগের আগে তিনি স্বগোতক্তি করেছিলেন- যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হয়, আমার আরেক ঘর আছে।

ডকুমেন্টারিতে বাংলাদেশে ফিরে এসে একটি বাড়ি বানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘স্বর্গে যেতে চাইলে বাংলাদেশে আসুন।’

নিজ দেশ যুক্তরাষ্ট্র তাকে নিয়ে সমালোচনা করলেও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার কারণে মুসলিম বিশ্বে এবং নিজের কৃষ্ণবর্ণ নিয়ে গর্বের কারণে আফ্রিকায় তিনি অকুণ্ঠ জনপ্রিয়তা লাভ করেন।অবশ্য এক দশকের মধ্যেই এ চিত্র অনেকটা পালটে যায়, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের ঘনিষ্ঠজনে পরিণত হন।

৭১ বছর বয়সী মুহম্মদ আলী বর্তমানে একজন আন্তর্জাতিক কূটনীতিক হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে থাকেন।ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি তাকে শতাব্দীর সেরা ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছে।